চলতি বছর ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি) বাংলাদেশে জনপ্রতি ফিতরার হার ইসলামিক ফাউন্ডেশন নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি মুসলিম নাগরিক নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী ফিতরা প্রদান করবেন, যা দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তায় ব্যবহার হবে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছরের ফিতরার হার নিচে দেওয়া হলো।
ফিতরার পরিমাণ ও খাদ্যদ্রব্যের তালিকা
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী আটা, যব, কিসমিস, খেজুর বা পনিরের যেকোনো একটির বাজার মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণানুসারে ২০২৬ সালের ফিতরার পরিমাণ নিচে দেখুন।
| পণ্য | পরিমাণ | মূল্য (টাকা) |
| গম বা আটা | ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) | ১১০ |
| যব | ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা’) | ৫৯৫ |
| খেজুর | ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা’) | ২,৪৭৫ |
| কিসমিস | ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা’) | ২,৬৪০ |
| পনির | ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম (এক সা’) | ২,৮০৫ |
(বি.দ্র.: দেশের সকল বিভাগের বাজার মূল্য অনুসারে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় খুচরা বাজারে মূল্য পার্থক্য থাকলে তদনুযায়ী স্থানীয় মূল্যে ফিতরা পরিশোধ করলেও এটি বৈধ হবে)।
ফিতরা কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়?
ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতভাবে এ বছরের ফিতরার পরিমাণ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মূলত নবী করিম (সা.)-এর যুগের পরিমাপ একক ‘সা’ অনুযায়ী এই হিসাব করা হয়েছে। আটা বা গমের জন্য ‘অর্ধ সা’ (১.৬৫ কেজি) এবং অন্যান্য পণ্যের জন্য ‘এক সা’ (৩.৩ কেজি) হিসাব করে বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে।
ফিতরা আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি
সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া: সর্বনিম্ন ১১০ টাকা দেওয়াই বাধ্যতামূলক নয়। যাদের বেশি সামর্থ্য আছে, তারা খেজুর, কিসমিস বা পনিরের দাম অনুযায়ী ফিতরা দিতে পারেন।
নগদ অর্থে ফিতরা: আপনি চাইলে আটা বা খেজুর সরাসরি দিতে পারেন, অথবা এর সমপরিমাণ বাজার মূল্য নগদ টাকায় গরিব ও অসহায়দের দেওয়া যাবে।
যৌথ ফিতরা: ফিতরা শুধু বড় বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য ফিতরা দিতে হয়। তাই পরিবারের প্রধান যে তাই একসাথে সকলের ফিতরা দায়িত্ব নিয়ে দরিদ্র ও অসহায়দের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।
ফিতরা আদায় সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন
১) ২০২৬ সালে ফিতরা কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে?
উত্তর: ২০২৬ সালে ফিতরার সর্বনিম্ন হার ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ হার ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
2) আমি কি ১১০ টাকার বেশি ফিতরা দিতে পারব?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই পারবেন। ১১০ টাকা হলো আটার মাপ অনুযায়ী সর্বনিম্ন হার। আপনার সামর্থ্য থাকলে যব (৫৯৫ টাকা), খেজুর (২,৪৭৫ টাকা), কিসমিস (২,৬৪০ টাকা) বা পনির (২,৮০৫ টাকা) মূল্যের সমপরিমাণ ফিতরা দিতে পারেন।
৩) স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম ভিন্ন হলে কী করব?
উত্তর: ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পণ্যের খুচরা বাজার মূল্যে পার্থক্য থাকতে পারে। স্থানীয় বাজারের বর্তমান মূল্যে হিসাব করে ফিতরা দিলেও তা বৈধ হবে।
৪) ফিতরার টাকা নিজ এলাকার দরিদ্র ও অসহায়দের দেওয়া যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ফিতরার টাকা নিজ এলাকার গরিব, এতিম ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করাই সবচেয়ে উত্তম।
